ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র অবশেষে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। আগামী বুধবার (২৪ জুন) মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলের প্রধান তারকাকে ফিরে পাওয়া সেলেসাও শিবিরের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই সুসংবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী সোমবার থেকেই নেইমার দলের মূল অনুশীলনে অংশ নেবেন এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য তিনি সম্পূর্ণ ফিট ও প্রস্তুত থাকবেন।
নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল দলের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোটাক্রান্ত হন এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর গত মঙ্গলবার তিনি প্রথমবারের মতো বল পায়ে হালকা অনুশীলন শুরু করেন। শারীরিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তিনি দলের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়া ভ্রমণ করেননি। পরিবর্তে মরিস্টনে দলের মূল বেস ক্যাম্পের হোটেলেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিজের ফিটনেস পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে গেছেন।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য নেইমারের ফেরাটা যখন বড় অনুপ্রেরণা, ঠিক তখনই দলে নতুন করে চোটের আঘাত লেগেছে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বার্সেলোনার উইঙ্গার রাফিনিয়া বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। রাফিনিয়ার এই আকস্মিক চোট দলের আক্রমণভাগে যে শূন্যতা ও উদ্বেগের তৈরি করেছে, তা নেইমারের উপস্থিতির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটিতে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ গোছানো। দলের তিনটি গোলের সবকটিই আসে প্রথমার্ধে। আক্রমণভাগের ফুটবলাররা শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা কিংবা প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে ব্যবধান আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
তা সত্ত্বেও দলের সামগ্রিক খেলায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগের মরক্কো ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচে দলের বল পজিশন, মোট শট এবং অন-টার্গেট শটের সংখ্যা অনেক উন্নত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, আক্রমণভাগে খেলোয়াড়দের মধ্যকার বোঝাপড়া ও মাঠের কৌশল বাস্তবায়ন সন্তোষজনক ছিল। হাইতির পাঁচজন ডিফেন্ডার যেভাবে রক্ষণাত্মক দেয়াল তৈরি করেছিল, তা ভেঙে গোল করা সহজ ছিল না। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দলের এই জয় এবং পারফরম্যান্স ইতিবাচক।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচটি ব্রাজিলের নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণ এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি মহড়া ও চাপের ম্যাচে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের দলে অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী ও ধারালো করে তুলবে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ এক মাস পর মাঠে ফিরে নেইমার নিজের চেনা ছন্দ কতটা দ্রুত ফিরে পান এবং রাফিনিয়ার সম্ভাব্য অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগকে কীভাবে নেতৃত্ব দেন।


