জাতীয় ডেস্ক
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত সংস্থা ১ শত ২৭ বারের মতো সময় পেল।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে রয়েছে। ইতিপূর্বে মামলার তদন্তের দায়িত্বে দীর্ঘ সময় নিয়োজিত ছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তবে তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব র্যাব থেকে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উচ্চ আদালতের দেওয়া সেই নির্ধারিত ছয় মাসের সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান এবং এর অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে আরও নয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে আদালত ছয় মাসের সময় মঞ্জুর করেন এবং ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের দিন নির্ধারণ করেন। কিন্তু এই বর্ধিত সময়ের মধ্যেও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
পরবর্তী সময়ে তদন্তের স্বার্থে এবং বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সকে কাজের সুবিধার্থে উচ্চ আদালত দফায় দফায় সময় বাড়িয়েছেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালত টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য টাস্কফোর্সকে নতুন করে আরও ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতাকে পুনরায় সামনে এনেছে।


