ভবিষ্যতে দেশকে এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

ভবিষ্যতে দেশকে এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

জাতীয় ডেস্ক

দেশে একটি আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই তথ্য জানানো হয়। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান পরিবহন এখন শুধু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান বিশ্বে একটি আধুনিক ও টেকসই বিমান পরিবহন ব্যবস্থা জাতীয় উন্নয়নের অপরিহার্য ভিত্তি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশকে ভবিষ্যতে এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে একটি সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা আবশ্যক এবং এই পরিকল্পনায় আগামী দিনে দেশের এভিয়েশন খাতের প্রকৃত অবস্থান ও লক্ষ্য প্রতিফলিত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজামান মিল্লাত দেশের বিমান চলাচল খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালনার প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনাটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে (এভিয়েশন হাব) পরিণত হতে পারবে। এতে কেবল বৈদেশিক বিনিয়োগ ও পর্যটক সমাগমই বাড়বে না, বরং দেশের জিডিপিতে এভিয়েশন খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক গতি আসবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় অংশীজনরা দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ