২৩ জুনের কর্মসূচি ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

২৩ জুনের কর্মসূচি ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

অপরাধ ডেস্ক

আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ রোববার মোহাম্মদপুরে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এ হুঁশিয়ারি দেন। রাজধানীতে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ২৩ জুনের কর্মসূচিকে ঘিরে কেউ যদি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায়, তবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকারীদের সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে চায়, তবে তারা নিজেরাই চরম ঝুঁকির মুখোমুখি হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে এলিট ফোর্স র‌্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় র‌্যাব বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাউরা সোহেল’। তাকে একটি সচল আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও দুই সক্রিয় সদস্য শফিকুল ইসলাম সবুজ ও রাসেলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

অভিযান ও আসামিদের অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরে র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মাউরা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ ও গাবতলী এলাকায় গ্যাং তৈরি করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এই চক্রটি মূলত গভীর রাতে এবং ভোরে সাধারণ পথচারী ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত। গ্রেপ্তারকৃত বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নতুন করে অস্ত্র ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ