জাতীয় ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এই দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে, গত ১৪ মে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যকার দীর্ঘ যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন পর্ব শেষ হয়। উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন। সোমবার আদালত রায় প্রকাশের জন্য এই নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেন। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও মঈনুল করিমসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী চলা গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তৎকালীন সরকারের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে এই সহিংসতার পেছনে উস্কানি, প্ররোচনা এবং ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এই মামলায় হাসানুল হক ইনু একমাত্র আসামি এবং বর্তমানে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোটের নেতা-কর্মীদের হামলায় ছয়জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। এ ছাড়া ওই সময় কুষ্টিয়া শহরে বহু নিরীহ মানুষ গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার পেছনে হাসানুল হক ইনুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনা এবং নীতিগত সমর্থন ছিল, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণঅভ্যুত্থানের পর এটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হতে যাচ্ছে। দেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩০ জুনের এই রায়কে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে।


