বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রফি বিতরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক, প্রথা ভেঙে ইনফান্তিনোর সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্প

বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রফি বিতরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক, প্রথা ভেঙে ইনফান্তিনোর সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্প

খেলাধুলা ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ শেষে ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এবার বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে যৌথভাবে ট্রফি তুলে দেবেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে স্বয়ং ফিফা সভাপতি নিশ্চিত করেছেন।

সাধারণত ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন সংস্থার প্রধান। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পূর্বসূরি সেপ ব্লাটারসহ বিগত সভাপতিরা এই নিয়ম মেনে এসেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; উভয় আসরেই এককভাবে ট্রফি হস্তান্তর করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে আসন্ন ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই যৌথ ট্রফি বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার পাশাপাশি বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে তারা দুজনে একসঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যকার ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ক্রীড়া মহলে নতুন কিছু নয়। এবারের বিশ্বকাপের সূচি নির্ধারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরোক্ষ প্রভাব বা সম্পৃক্ততার গুঞ্জন রয়েছে, যা এই ঘোষণার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হলো।

ফিফার ইতিহাসে রাষ্ট্রপ্রধানদের ট্রফি বিতরণের নজির অবশ্য একেবারে নেই তা নয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৎকালীন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বিজয়ী অধিনায়ক ববি মুরের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস ইতালির অধিনায়ক দিনো জোফকে ট্রফি হস্তান্তর করেছিলেন। তবে আধুনিক ফুটবল কাঠামো এবং ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাবোধের যুগে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এভাবে সরাসরি মূল মঞ্চে সম্পৃক্ত হওয়াকে অনেকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ফুটবলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ফিফার নিজস্ব নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিশেষ করে সম্প্রতি নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি বনাম প্যারিস সেন্ট জার্মেইর ম্যাচ শেষে অনভিপ্রেত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। চেলসি শিরোপা জেতার পর দলটির অধিনায়ক রিসি জেমসের হাতে ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প। তবে ট্রফি হস্তান্তরের পরও তিনি দীর্ঘক্ষণ মঞ্চে অবস্থান করায় বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের উদযাপনে কিছুটা বিভ্রান্তি ও অস্বস্তি তৈরি হয়।

ক্লাব বিশ্বকাপের সেই ঘটনার পর বিশ্বকাপের মূল আসরের ফাইনালেও একই ধরনের প্রটোকল অনুসরণের সিদ্ধান্ত ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য ও স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবে ফিফাকে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ