রুপার দাম আরও এক দফা কমাল বাজুস

রুপার দাম আরও এক দফা কমাল বাজুস

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয়বারের মতো হ্রাস পেয়েছে রুপার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৪০৮ টাকা পর্যন্ত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই মূল্যতালিকা আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রুপার সবকটি ক্যাটাগরিতেই দাম কমানো হয়েছে। মানভেদে প্রতি ভরি রুপার নতুন দাম নিচে দেওয়া হলো:

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৮৪১ টাকায়, যা আগে ছিল ৫,২৪৯ টাকা।

  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরিতে ৪০৯ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৬০৭ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৫,০১৬ টাকা।

  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরিতে ২৯১ টাকা হ্রাস পেয়ে বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩,৯৬৬ টাকায়, যা আগে বিক্রি হচ্ছিল ৪,২৫৭ টাকায়।

  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি রুপার দাম ২৩৪ টাকা কমে ২,৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার পূর্বমূল্য ছিল ৩,২০৮ টাকা।

এর আগে গত ১৯ জুন দেশের বাজারে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিতে ১১৬ টাকা কমানো হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় দাম কমায় দেশের বাজারে রুপার ক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে রুপার সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ বার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ২৪ বার রুপার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাকি ২৪ বার দাম কমানো হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে মূল্যবৃদ্ধির ধারা এবং মূল্যহ্রাসের ধারা সমতায় পৌঁছাল। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালের পুরো সময়ে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বারই দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং মাত্র ৩ বার দাম কমানোর সুযোগ হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুর মূল্যের ওঠানামার কারণেই অভ্যন্তরীণ বাজারে এই ধারাবাহিক সমন্বয় করা হচ্ছে। রুপার এই মূল্যহ্রাস দেশের অলঙ্কার শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে রুপার গহনার চাহিদা তৈরিতে এটি ভূমিকা রাখবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ