বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ং-বো

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ং-বো

খেলাধুলা ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হং মিয়ং-বো। দলের আশানুরূপ পারফরম্যান্সে ব্যর্থতা, দেশের রাজনৈতিক শীর্ষমহলের তীব্র সমালোচনা এবং সমর্থকদের অব্যাহত ক্ষোভের মুখে ৫৭ বছর বয়সী এই সাবেক অধিনায়ক পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালের পর এটি তার অধীনে দলটির দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘটনা।

এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের (চেকিয়া) সাথে একই গ্রুপে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়াকে নকআউট পর্বের অন্যতম দাবিদার মনে করা হচ্ছিল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় এশিয়ার পরাশক্তিরা। শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেলেও, তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। এই ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে হং মিয়ং-বো জানান, বিগত দুই বছর ধরে প্রতিটি সিদ্ধান্ত তিনি দেশের ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই নিয়েছেন। সব সিদ্ধান্ত সঠিক না হলেও তার সততার কোনো ঘাটতি ছিল না। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে সাধারণ সমর্থক হিসেবে দলের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

হংয়ের পদত্যাগের পূর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং জাতীয় দলের এই বিপর্যয় নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রীড়া প্রশাসনে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য ও পক্ষপাতিত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলেই নেতৃত্বের এই অযোগ্যতা ও বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এই ফলাফলের জন্য দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৪ সালে হং মিয়ং-বো দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল সমর্থক ও গণমাধ্যম তার কৌশলের সমালোচনা করে আসছিল। ঘরের মাঠের ম্যাচগুলোতেও তাকে দর্শকদের একাংশের দুয়ো শুনতে হয়েছে। বিশেষ করে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞ অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়। নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য যেখানে মাত্র এক পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল, সেখানে এই রণকৌশলগত ভুল দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়। এই পদত্যাগের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং নতুন কোচ নিয়োগের পাশাপাশি সামগ্রিক ফুটবল কাঠামো সংস্কারের চাপ তৈরি হলো।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ