রাজধানীতে ২৮ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি লালন গ্রেফতার

রাজধানীতে ২৮ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি লালন গ্রেফতার

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে ২৮টি মাদক মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. লালনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনে। সোমবার ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্টন জাতীয় স্টেডিয়ামের ৪ নম্বর গেইট সংলগ্ন এরশাদ গলিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লালন তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ফেলে কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই পরিত্যক্ত ব্যাগটি তল্লাশি করে ৯ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৪ গ্রাম ওজনের ২০৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ২১ হাজার ৬০০ টাকা এবং একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে তাকে গ্রেফতারে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয় এবং গত শনিবার (২৭ জুন) পুনরায় জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা থেকেই তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত লালন তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তার নিকটাত্মীয় ও সহযোগীদের সহায়তায় মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে আসছিল। পরবর্তীতে এসব মাদক রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি মূল্যে বিক্রি ও সরবরাহ করা হতো। বিশেষ করে পল্টন ও জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তার একটি বড় মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।

পল্টন থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. লালন রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ২৮টি মামলা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, বিগত মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই সে দুইবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর ও জামিনের সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই খুব অল্প সময়ের মধ্যে কারাগার থেকে বের হয়ে আসে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই সে পুনরায় একই এলাকায় তার পুরনো মাদক সিন্ডিকেট সচল করে এবং পুনরায় অবৈধ মাদক কারবারে লিপ্ত হয়। বারবার জামিনে মুক্তি পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় স্টেডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং জনাকীর্ণ ক্রীড়া জোনের আশপাশ এলাকায় মাদক বিক্রির অন্যতম মূল হোতা ছিল এই লালন। তার গ্রেফতারের ফলে এই এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধরনের কঠোর অবস্থান সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত রবিবার (২৮ জুন) আসামি লালনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে বিজ্ঞ আদালত সার্বিক তথ্য ও অপরাধের রেকর্ড বিবেচনা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ জানায়, লালনের এই মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং তার অর্থায়নের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ