জাতীয় ডেস্ক
আফগানিস্তান সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। গত রোববার রাতে পরিচালিত এই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অংশ নেয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলা সংগঠিত হয়। এসব হামলার প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ বা টিটিপি-এর সক্রিয় সদস্য বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগান সীমান্তসংলগ্ন পাকিস্তানের এই অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর মতাদর্শে প্রায় আড়াই দশক আগে পাকিস্তানে টিটিপি গঠিত হয়েছিল। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে উগ্রপন্থী ও সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তান সরকার এই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বর্তমানে সরকারি নথিপত্র ও বিবৃতিতে এই গোষ্ঠীকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও তাঁর বিবৃতিতে নিহতদের এই গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই অভিযানের পটভূমি বিশ্লেষণে জানা যায়, গত শনিবার রাতে সিন্ধ প্রদেশের রাজধানী করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদর দপ্তরে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়। ওই হামলায় রেঞ্জার্সের তিন কর্মকর্তা নিহত হন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদর দপ্তরে এই হামলার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরপরই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার রাতে সীমান্তে এই বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়।
পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই অভিযানের গভীর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে করাচির মতো অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর এমন কঠোর অবস্থান উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। তবে সীমান্তবর্তী এই অস্থিতিশীলতা নিরসন এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।


