ক্রীড়া ডেস্ক
৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের ৭২টি ম্যাচ শেষে প্রতিযোগিতা এখন ৩২ দলে নেমে এসেছে। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষ হওয়ার পর নকআউট পর্বের সমীকরণ এবং দলগুলোর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্ট’। সুপারকম্পিউটারের এই গাণিতিক মডেলে শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স, তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পরিসংখ্যানগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শেষ বত্রিশের ধাপ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব থার্টি টুতে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হতে যাওয়া দলটির পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, কোয়ার্টার ফাইনাল (৭০.৫%), সেমিফাইনাল (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে খেলার সম্ভাবনার (৩০%) দিক থেকেও লিওনেল মেসির দল বাকি দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার বেশি হলেও, চূড়ান্তভাবে শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে ফরাসিদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ বলে নির্ধারণ করেছে সুপারকম্পিউটার।
অন্যদিকে, কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ৮১.৫ শতাংশ। পরবর্তী ধাপগুলোতে তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল (৫৮.৩%), সেমিফাইনাল (৪২.৭%) এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবে ফাইনালে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে ফরাসিরা ১৮.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ফলে পরিসংখ্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ জয়ের এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। এর পরেই ৯.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কম, মাত্র ৬.৫ শতাংশ। ইউরোপের অন্যান্য পরাশক্তিদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের ৫.১ শতাংশ, পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ট্রফি ঘরে তোলার।
এবারের আসরে চমক দেখানোর সক্ষমতা রাখে এমন দলগুলোর মধ্যে কলম্বিয়ার সম্ভাবনা ৩.২ শতাংশ এবং নরওয়ের ৩ শতাংশ। টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা ২.৫ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের ২.২ শতাংশ এবং অপর স্বাগতিক মেক্সিকোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। এছাড়া গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবং বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ। এশিয়ার শীর্ষ দল জাপানের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাসগুলো মূলত দলগুলোর অতীত পারফরম্যান্স, বর্তমান ফর্ম এবং নকআউট পর্বের প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি গাণিতিক সমীকরণ মাত্র। মাঠের ৯০ মিনিটের বাস্তব লড়াইয়ে যেকোনো সময় কৌশলগত পরিবর্তন বা অপ্রত্যাশিত ফলাফল এই পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে।


