ডেস্ক
বাগেরহাটে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শহীদ বাদল মোড়লের পরিবারের সব ধরনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপি। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম নিহত নেতার পরিবারের সদস্যদের এই আশ্বস্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীকে সরকার ও দলীয়ভাবে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
গতকাল শনিবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে নিহত বাদল মোড়লের কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নিহত কৃষক দল নেতার স্ত্রীর ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাদল মোড়লের পরিবারের পাশে সরকার ও বিএনপি পরিবার দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কাউকেই রক্ষা করতে পারবে না।
দেশে বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সংঘটিত নির্মম গণহত্যা এবং পরবর্তী সময়ে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি অতীতেও কখনো হত্যা, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে যারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল ও সরকারের সুনাম নষ্টকারী কোনো ব্যক্তির স্থান বিএনপিতে হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
হত্যাকাণ্ডের পর গৃহীত আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাদল মোড়ল হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিশেষ বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তদারকির জন্য খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলার এজাহারভুক্ত দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শীঘ্রই অন্যান্য আসামিরাও ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সাথে কোনো ধরনের উস্কানিতে কান না দিয়ে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।
উক্ত কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও সমবেদনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, জেলা বিএনপি নেতা অহিদুজ্জামান পল্টু, এসকেন্দার হোসেন, ফকির তারেক, শেখ মঈন, আজাদ আবুল কালাম এবং জেলা যুবদল নেতা সাঈদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল। এ সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।


