জাতীয় ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এর মূল লক্ষ্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিটি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে জুলাইয়ের চেতনা ও সনদ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (পূর্বতন চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম এবং বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই সনদের কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অনুচ্ছেদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য ও নির্দেশনায় এই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন রয়েছে। তবে একটি বিশেষ মহল জুলাইয়ের এই ঐতিহাসিক অর্জন ও সনদকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা তথাকথিত গণভোটের দাবি তুলে মূল এজেন্ডা থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ ভিন্ন খাতে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছে। যখন সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই দাবিগুলো জুলাই সনদের অংশ নয়, তখন তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ভিন্ন পথ অবলম্বনের পাঁয়তারা করছে।
দেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করে মো. আসাদুজ্জামান দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি বিদ্যমান হুমকিগুলো নিয়ে কথা বলেন। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে দেশের এক প্রান্তে বসে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব হরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। এই দুই অপশক্তির বিষয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ ও জুলাই আন্দোলনের মূল অংশীজনদের সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী দেশের জনগণকে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে যেকোনো বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ‘অতন্দ্র প্রহরী’র মতো ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামনের কাতারে থেকে যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, সেটিই মূলত জুলাইয়ের প্রকৃত পথ এবং এই পথ ধরেই রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনে দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমাজে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ জুলাইয়ের চেতনা ও সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে নিজস্ব কায়েমি স্বার্থ হাসিল এবং ব্যক্তিস্বার্থের ব্যবসায় মেতে উঠেছে। অপরদিকে, একটি বৃহৎ অংশ জুলাই সনদকে সামনে রেখে এর পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল উপায়ে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দ্বিতীয় অংশটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অত্যন্ত আন্তরিক। বিশেষ করে বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অবস্থান দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। সম্মেলনটিতে দেশের বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জুলাই আন্দোলনের সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।


