অপরাধ ডেস্ক
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৫) অভিযানে ৩০০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫০ গ্রাম হাইড্রোসসহ মো. আল-আমিন (২২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে গোদাগাড়ী থানাধীন লালবাগ হেলিপ্যাড এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বসতবাড়ির সামনের রাস্তা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত আল-আমিন গোদাগাড়ী উপজেলার রামনগর এলাকার মো. নুরুল ইসলামের পুত্র। আজ রোববার দুপুরে র্যাব-৫-এর সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি বিশেষ দল জানতে পারে যে, গোদাগাড়ীর লালবাগ হেলিপ্যাড এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যসহ এক ব্যক্তি অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দলটি ওই এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আল-আমিনের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন এবং ১৫০ গ্রাম উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোস উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৫-এর মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট এফএমবিএস আল মোমেন জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘ দিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে হেরোইন ও হাইড্রোস সংগ্রহ করে আসছিল। পরবর্তীতে সে সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোদাগাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মাদক সরবরাহ ও ক্রয়-বিক্রয় করতো। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগুলোও বিক্রির উদ্দেশ্যে সে নিজের কাছে রেখেছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী অঞ্চলটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখান থেকে দেশজুড়ে হেরোইন ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার ঘটছে, যা যুবসমাজকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরনের অভিযান মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃত আসামিকে গোদাগাড়ী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আল-আমিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার মাদক নির্মূলে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


