জাতীয় ডেস্ক
টাঙ্গাইলে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, বিভিন্ন গাছের চারা ও সার বিতরণ করা হয়। একই সাথে স্থানীয় অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থের চেকও হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আয়োজিত এই অনুদান বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এই কর্মসূচি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের কৃষি ও কৃষকের সামগ্রিক কল্যাণে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় গতকাল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মোট ২ হাজার ৫ শত ৯০ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষককে সরাসরি এই প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কৃষির বহুমুখীকরণের উদ্দেশ্যে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও বিভিন্ন ফলদ-বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সাথে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ফলন ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খরিপ মৌসুমে এই ধরনের সরকারি কৃষি প্রণোদনা প্রান্তিক কৃষকদের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনে। বিশেষ করে সার ও বীজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের সঠিক সময়ে প্রাপ্তি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মাঠপর্যায়ে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ স্থানীয় পর্যায়ে আপৎকালীন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমানা আকতারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সুবিধার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


