অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের শিল্প কারখানাগুলোতে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার বিশেষ ‘ক্রাশ কার্যক্রম’ হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী মো. খোন্দকার আবুল মোক্তাদির। তবে বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা না থাকায় এই মুহূর্তে পাইপলাইনে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ বা আমদানির মাধ্যমে দ্রুত এ সংকট সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রী জানান, সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু গ্যাস আমদানি বাড়িয়ে সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে এবং জাহাজ ভাঙা (শিপ ব্রেকিং) শিল্পে দেশের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পিএইচপি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় কারখানায় অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নিরাপত্তাকর্মীদের পরিচালনায় একটি বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধারকাজ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক প্রদর্শন করা হয়।
সাক্ষাৎকার পর্বে পিএইচপি কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর কাছে শিল্প খাতের কিছু নীতিগত জটিলতার কথা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পরিবেশ ও সুরক্ষার সব ধরনের নিয়ম নীতি মেনে ইয়ার্ড পরিচালনা করা সত্ত্বেও বিগত দুই বছর ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই খাতকে ‘রেড ক্যাটাগরি’ বা লাল তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প খাতের বিকাশের স্বার্থে এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা মন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান। মন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।


