জাতীয় ডেস্ক
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছে না। গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এ হারকে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এবার ফরম পূরণ করেছে সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী; অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে রয়েছে।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। এক বছরের ব্যবধানে এই হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এই হার আরও বেশি, যেখানে ৫৪ শতাংশের বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী ঝরে পড়া দেশের সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় সংকট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেবল উচ্চমাধ্যমিক নয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেও ঝরে পড়ার হার ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যানুসারে, দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মোট প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৩৮৩টি বা প্রায় ৫৫ শতাংশ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এছাড়া, ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি (১৮ শতাংশের বেশি) পদ খালি থাকায় প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি শিক্ষার এই সংকট দূর করতে পারবে না। বিগত দুই বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, জোরপূর্বক শিক্ষক লাঞ্ছনা ও পদত্যাগের ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের একাংশের পাঠবিমুখতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্তরে স্বাভাবিক পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরায় সচল করতে অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সুসম্পর্ক জোরদার করা এবং মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


