কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত চারটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতের আরিফজান ও আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফাইর ও শেখ ইসা নামের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ঝাঁকে ঝাঁকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা হয়। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতার অংশ হিসেবেই এই ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই সামরিক উত্তেজনার পটভূমি ব্যাখ্যা করে আইআরজিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় একজন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারান এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ইরানের উত্তর গোলস্তান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুতেও মার্কিন বাহিনী বোমাবর্ষণ করে অবকাঠামোগত ক্ষতিসাধন করে। ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক স্থাপনায় এই হামলার জবাবেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে আবারও এই ধরনের কোনো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করে, তবে ইরান আরও বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও এই ধরনের হামলার আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বিবৃতিতে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের অবতারণা করে বলা হয়, ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা এবং তাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ ইরাকসহ পুরো অঞ্চলে যে নজিরবিহীন জনসমাগম ও গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে, তা ওয়াশিংটনের নীতিপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে দিতে এবং নিজেদের কৌশলগত দুর্বলতা ঢাকতেই মার্কিন প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ইরানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল। আইআরজিসির মতে, আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক প্রতিরোধকামী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ