অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোটি কোটি গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাহকরা কোনো ধরনের বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বিআরইবি এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ইউটিলিটি বিল পরিশোধে এক নতুন মাত্রার সূচনা হলো।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সামসুল হক সুফিয়ানী এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আর্থিক মনিটরিং (উত্তরাঞ্চল) বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ। উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তিটি দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং ও ইউটিলিটি সেবার আওতা বৃদ্ধিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। সারা দেশে প্রায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে বিআরইবি-এর গ্রাহক সংখ্যা কয়েক কোটির ওপরে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের একটি বিশাল অংশ। বিশাল এই গ্রাহকগোষ্ঠীর প্রতি মাসে নিয়মিত বিল পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও সহজলভ্য মাধ্যম নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের বিল পরিশোধের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যাংকে বা বিলিং কেন্দ্রে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
এই চুক্তির ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা এখন থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি ছাড়াই কমিউনিটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা ও উপশাখা ব্যবহার করে দ্রুত বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এতে করে গ্রাহকদের যাতায়াত খরচ ও মূল্যবান সময়ের সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ও বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দিক থেকেও এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি বিল সংগ্রহ করা হলে বিআরইবি-এর রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া যেমন দ্রুততর হবে, তেমনি আর্থিক হিসাব-নিকাশে স্বয়ংক্রিয়তার কারণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রিয়েল-টাইম ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে গ্রাহক বিল পরিশোধ করার সাথে সাথেই তা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সার্ভারে হালনাগাদ হয়ে যাবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব সেবা প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। দেশব্যাপী তাদের দ্রুত সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউটিলিটি বিল পরিশোধের এই সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতিরই অংশ। আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার রূপকল্প এবং ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বা ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে এসে অনেক সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ও সরকারের যুগ্ম সচিব মিলিয়া শারমিন, নিয়ন্ত্রক (অর্থ ও হিসাব) মো. ইদ্রিস, বোর্ডের সচিব শারমিন মাহমুদ এবং অর্থ বিভাগের দুই পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন ও হিমেল পাল।
এছাড়াও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং ও হেড অব বিজনেস (ব্রাঞ্চ) ড. মো. আরিফুল ইসলাম, চিফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অফিসার মো. তানজীম মোর্শেদ ভূঁইয়া, কর্পোরেট ব্যাংকিং ডিভিশনের ইউনিট হেড সুজাত হক, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম কাদির (এফসিএ), হেড অব এডিসি অ্যান্ড হেড অব এমডি’স কো-অর্ডিনেশন টিম মামুন উর রহমান এবং ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট টিমের তুহিনুল ইসলাম ও নিশিত কান্তি সরকারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সাথে সরকারি ইউটিলিটি সেবার এই সমন্বয় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি সফল দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, আগামীতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধার্থে বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় আরও নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সেবার সংযোজন করা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।


