দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহ

দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহ

ক্রীড়া ডেস্ক

জারেল কুয়ানসাহর এই অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ, বিশেষ করে রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে কোচ থমাস টাচেলকে নতুন করে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। দলের নিয়মিত এবং একমাত্র স্বীকৃত রাইট-ব্যাক, চেলসি অধিনায়ক রেসি জেমস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গত তিনটি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। জেমসের অনুপস্থিতিতে দলের রক্ষণভাগ সামাল দিতে টাচেল বিকল্প হিসেবে ডেয়েড স্পেন্স এবং কুয়ানসাহকে রাইট-ব্যাক পজিশনে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে এই পজিশনটিতে তারা দুজনেই নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেয়েছেন, যা দলের রক্ষণাত্মক কৌশলে কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

এদিকে দলের ইনজুরি সমস্যা আরও প্রকট রূপ ধারণ করেছে অধিনায়ক রেসি জেমসের সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তায়। গত বুধবার দলের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন সেশনে অনুপস্থিত ছিলেন জেমস। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে আসন্ন কোয়ার্টার ফাইনালে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এর আগে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টা ডিফেন্ডার এজরি কোনসাকে তার স্বাভাবিক পজিশন ছেড়ে বাধ্য হয়ে রাইট-ব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। জেমস এবং কুয়ানসাহর যৌথ অনুপস্থিতিতে নরওয়ে বধের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রক্ষণভাগের ডান দিক সামলানোর জন্য টাচেলকে এখন সম্পূর্ণ নতুন কোনো রণকৌশল সাজাতে হবে।

এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার সূত্র ধরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সমসাময়িক আরেকটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা ফিফা কর্তৃক স্থগিত করার পর, ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) কুয়ানসাহর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার আইনি ও কৌশলগত পথ খুঁজছে। এফএ-র নীতিনির্ধারকদের মতে, ফিফার শাস্তিমূলক নিয়মের প্রয়োগে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে এবং কুয়ানসাহর ক্ষেত্রেও আপিলের সুযোগ থাকা উচিত।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফিফার এই দ্বিমুখী নীতির প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টাচেল। মেক্সিকো সিটিতে জয়ের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। টাচেল বলেন, “নিয়ম বা সিদ্ধান্তের এই ধারা আসলে কোথা থেকে শুরু হচ্ছে এবং কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা অনুধাবন করা কঠিন। আমরা কি এখন যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আবেদন করতে পারি, নাকি পারি না? আসলে ফুটবল নিয়ামক সংস্থায় কী ধরনের প্রক্রিয়া চলছে? নিয়মের সীমারেখাটা ঠিক কোথায় টানা হবে, এটাই এখন মূল প্রশ্ন।”

কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগ মুহূর্তে রক্ষণভাগের এই অস্থিরতা এবং ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক মাঠের বাইরে ইংল্যান্ড দলকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে থমাস টাচেল তার দলের রক্ষণভাগকে নরওয়ের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে কতটা সুসংগঠিত করতে পারেন এবং সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেন কিনা।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ