সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবার ওপর জোর আইজিপির

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবার ওপর জোর আইজিপির

অপরাধ ডেস্ক

বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে ৪২তম ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আধুনিক বিশ্বের অপরাধ জগতের পরিবর্তনশীল ধারার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, অপরাধ মোকাবিলায় কেবল প্রথাগত প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়, বরং দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা অর্জনকে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য বাধ্যতামূলক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে প্রতিনিয়ত নিজেদের আপডেট রাখা সময়ের দাবি।

আইজিপি আরও বলেন, সব ধরনের ভয়ভীতি, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনই পুলিশের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তা বিধান এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই হবে পুলিশ সদস্যদের প্রধান কাজ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ওপর জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নিরপরাধ, বিপন্ন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি আহ্বান জানান। পুলিশের আচরণ যেন জনসেবার প্রতিফলন ঘটায়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের সমাপনী কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারী এবং ৪৮১ জন পুরুষসহ মোট ৫০০ জন শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে মোট ৫২৭ জন শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। কঠোর প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত মানদণ্ড উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে এবার ৫০০ জন সদস্য মূল কর্মজীবনে পদার্পণ করলেন।

রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এই সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই নবীন সদস্যরা দেশের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মজীবন শুরু করবেন, যেখানে সাইবার অপরাধ দমনসহ আধুনিক অপরাধ জগত মোকাবিলা তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ