জাতীয় ডেস্ক
একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে নিহিত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রূপরেখা প্রণয়নই আধুনিক ও টেকসই নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সামাজিক সংগঠন ‘আপন’ আয়োজিত মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের প্রাক্কালে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বা ‘আমার পরিকল্পনা আছে’ ঘোষণার মাধ্যমে জাতির সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছিলেন। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে এই দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ভাষণের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তুলে ধরেছেন, তা বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের চিন্তাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, যখন কোনো রাষ্ট্রনায়ক জাতির সামনে আগামীর রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নের প্রতিফলন দেখতে পায়। বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি আস্থা রেখেই তাঁকে এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিপুল সমর্থন প্রদান করেছে। এই পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বই আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
তারেক রহমানের গৃহীত পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো সমঅধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে অঙ্গীকার সরকার নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। মহাত্মা ভেগাই হালদারের মানবিক আদর্শের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি যে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের কথা প্রচার করে গেছেন, তা আজকের দিনেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিভেদ সৃষ্টিকারী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা একক ধর্ম, সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে, তারা মানবতা, সভ্যতা ও প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী। বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ এবং সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমেই দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এখানে বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান নেই। সরকার দেশে সকল জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘আপন’-এর ঢাকা শাখার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার। অনুষ্ঠানের শেষভাগে কৃতি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে মহাত্মা ভেগাই হালদারের জীবনদর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


