মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সও রুখতে পারল না মায়ামির বিপর্যয়

মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সও রুখতে পারল না মায়ামির বিপর্যয়

ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর আক্রমণভাগের দাপট সত্ত্বেও অবিশ্বাস্য এক পরাজয়ের সাক্ষী হলো ইন্টার মায়ামি। ঘরের মাঠ ‘নু স্টেডিয়ামে’ টানা চতুর্থ ম্যাচে জয়ের দেখা পেতে ব্যর্থ হলো টাটা মার্টিনোর শিষ্যরা। ম্যাচের এক পর্যায়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের চরম নড়বড়ে অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোল ব্যবধানে ওরল্যান্ডো সিটির কাছে হার মেনেছে মায়ামি। এই পরাজয় এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্সে দলটির ধারাবাহিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে ইন্টার মায়ামি। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল স্বাগতিকরা। ২৬টি শটের মধ্যে ১০টি ছিল গোলমুখে। অথচ বিপরীতে মাত্র ১৩টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখা ওরল্যান্ডো সিটি মায়ামির রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। বিশেষ করে ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তের গোলটি মায়ামির মাঠের নতুন ঠিকানাকে যেন আক্ষরিক অর্থেই এক হতাশাজনক উপাখ্যানে পরিণত করেছে।

খেলার শুরুটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই লিড নেয় ইন্টার মায়ামি। মাঝমাঠ থেকে মেসির বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তেলাস্কো সেগোভিয়া একটি নিখুঁত ক্রস দেন, যা হেডের মাধ্যমে জালে জড়ান ইয়ান ফ্রে। শুরুর এই গোলটি মায়ামিকে মানসিকভাবে এগিয়ে দেয়। ২৫ মিনিটে আবারও মেসির পায়ের জাদুতে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ডি-বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ভিড় ঠেলে মেসির দেওয়া সূক্ষ্ম পাস থেকে গোল করতে ভুল করেননি সেগোভিয়া।

ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার অপেক্ষায় গ্যালারি ঠাসা দর্শক অধীর হয়ে ছিলেন। বক্সের ঠিক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের ট্রেডমার্ক বাঁকানো শটে গোল করেন মেসি। বলটি পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ালে গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল মায়ামি একটি বড় জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর পরেই শুরু হয় নাটকীয় বিপর্যয়।

৩৯ মিনিটে ওরল্যান্ডো সিটির পক্ষে প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান মার্টিন ওজেদা। প্রথমার্ধ ৩-১ ব্যবধানে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামির ডিফেন্স লাইন পুরোপুরি অগোছালো হয়ে পড়ে। ৬৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন ওজেদা। ৭৮ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ওরল্যান্ডো। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকে সমতায় ফেরান ওজেদা।

৩-৩ সমতায় ফেরার পর মায়ামি গোল পেতে মরিয়া হয়ে উঠলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি। অন্যদিকে, রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে টাইরিস স্পাইসার গোল করলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। ৪-৩ গোলের এই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তালিকার তলানির দিকে থাকা ওরল্যান্ডো সিটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টার মায়ামির এই হারের পেছনে মূল কারণ তাদের অস্থিতিশীল রক্ষণভাগ। মাঝমাঠ এবং আক্রমণে মেসি-সুয়ারেজ জুটি সুযোগ তৈরি করলেও রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। বিশেষ করে বড় লিড ধরে রাখতে না পারার মানসিকতা দলের কৌশলগত ব্যর্থতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। পয়েন্ট টেবিলের ১৪তম স্থানে থাকা দলের কাছে এই হার মায়ামির আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। ঘরের মাঠে টানা জয়হীন থাকা এবং ডিফেন্সের এই ভঙ্গুর দশা কাটাতে না পারলে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ