জাতীয় ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতির দেশে প্রত্যাবর্তনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, গত ৯ মে জরুরি চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। রাষ্ট্রপতির এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় সম্ভাষণ জানান।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই বিদেশ সফরটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি জটিল কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকেই চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা মেনে চলছেন তিনি। এবারের যুক্তরাজ্য সফরটি মূলত সেই কার্ডিয়াক সার্জারি-পরবর্তী নিয়মিত ফলোআপ এবং শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্যই আয়োজন করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির সুস্থতা ও দেশে প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি এবং সমস্ত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় কার্যভার সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হলেও, নিয়মিত চিকিৎসা শেষ করে তাঁর সশরীরে দায়িত্ব গ্রহণ প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পুনরায় বঙ্গভবনে তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শুরু করবেন বলে জানা গেছে।


