অপরাধ ডেস্ক
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল কালিদাসখালিতে গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিবর্ষণে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) রাত ১২টার দিকে পদ্মানদীর তীরবর্তী চরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে জিয়াউল হক (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, স্বপন বেপারী (৪০) নামে অন্যজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে পদ্মানদীর কালিদাসখালি চরে ১৫ থেকে ১৬ জনের একদল সশস্ত্র লোক দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় কালিদাসখালির সিদ্দিক বেপারীর ছেলে স্বপন বেপারী ট্রলারের দিকে টর্চলাইটের আলো ফেললে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলির শব্দ শুনে পদ্মা নদী থেকে মাছ শিকার করে বাড়ি ফিরতে থাকা নিচপলাসী গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক ও চরের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা আবারও গুলি চালায়। এতে স্বপন ও জিয়াউল দুজনেই গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা জিয়াউলকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠালেও স্বপনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ স্বপন বেপারীর পিতা সিদ্দিক বেপারী জানান, মধ্যরাতে গুলির শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির বাইরে আসতেই সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার চোখের সামনেই ছেলে স্বপনকে ধরে ফেলে। একপর্যায়ে স্বপনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে আহত অবস্থায় তাকে ট্রলারে তুলে নদীপথে নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা স্বপনের জীবন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কালিদাসখালি) সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের ওই এলাকায় একটি বালুরঘাট রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতের সহিংসতা সেই বালুরঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও চরের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চরের সাধারণ মানুষ বর্তমানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বাঘা থানা পুলিশের একটি দল দুর্গম কালিদাসখালি চরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ পরিদর্শনের সময় ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে প্রচুর রক্তের দাগ এবং সংঘর্ষের আলামত দেখতে পায়। তবে রাত পর্যন্ত নিখোঁজ স্বপন বেপারীর অবস্থান বা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। এলাকায় নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চরাঞ্চলে গভীর রাতে গোলাগুলি ও একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। সেখানে রক্তের আলামত পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং এই ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


