আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে দেশটির সাধারণ জনগণকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহ পুরো লেবাননকে জিম্মি করে রেখেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত যেকোনো সময় একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
লেবাননের নাগরিকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধ লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্দিষ্টভাবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে। হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত হতে পারলে লেবানন ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরীণ জনমতকে হিজবুল্লাহর বিপক্ষে নেওয়ার একটি কৌশলগত প্রয়াস চালাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় লেবাননের সাধারণ জনগণের ওপর এই আহ্বানের প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার তীব্রতা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাতের এই বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ক্রমান্বয়ে এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব শুধু এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে জানান, বর্তমানে সীমান্তে যে ধরনের সামরিক তৎপরতা চলছে, তা আপাতদৃষ্টিতে কম মাত্রার সংঘাত মনে হলেও যেকোনো মুহূর্তে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকিকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকট নিরসনে নতুন করে কোনো অজুহাত বা সামরিক হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সীমান্ত পেরিয়ে উভয় পক্ষের হামলার পরিধি এবং প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলকে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং সংলাপের উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করতে পারে।


