৫০ হাজার ছুঁইছুঁই হাজি দেশে ফিরেছেন, সৌদিতে চিকিৎসাধীন ২৫ জন

৫০ হাজার ছুঁইছুঁই হাজি দেশে ফিরেছেন, সৌদিতে চিকিৎসাধীন ২৫ জন

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৯৮২ জন বাংলাদেশি হাজি নির্বিঘ্নে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। মোট ১১৬টি ফ্লাইটে তারা ঢাকা পৌঁছান। দেশে প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৪৫ হাজার ৬৯৩ জন হাজি রয়েছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে জানা যায়, ১১ জুন পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি মোট ৫০টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩৫৫ জন হাজিকে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস ৪৬টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৯৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২০টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৩৯ জন হাজি পরিবহন করেছে। অবশিষ্ট ৩ হাজার ৯১ জন হাজি অন্যান্য ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শেষ হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চলতি বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে এবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন অংশ নেন। গত ৩০ মে থেকে হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়।

এদিকে হজ পালনের আগে ও পরে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৪৯ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন এবং নারী ১৬ জন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় ১ জন মারা গেছেন। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক পবিত্র ভূমিতে মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ সেখানেই দাফন করা হয়। মৃতদের নাম ও পরিচয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদি আরবে স্থাপিত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩১৫টি সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে ৬১ হাজার ৪৭৩টি।

বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে মোট ৪১০ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ১০ জন, মক্কা মেডিক্যাল সেন্টারে ৪ জন, কেয়ার মেডিক্যালে ৩ জন, হেরা জেনারেল ও কিং ফাহাদ জেনারেল হাসপাতালে ২ জন করে এবং কিং আব্দুল আজিজ, কিং ফয়সাল, সৌদি জার্মান ও হায়াত ন্যাশনাল হাসপাতালে ১ জন করে ভর্তি রয়েছেন। বাংলাদেশ হজ মিশন ও চিকিৎসাদলের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন হাজিদের খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ