অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ফের বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। টানা চার দফা কমানোর পর এবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকেই এই নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই বর্ধিত মূল্যে সোনা কেনাবেচা হচ্ছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, আজ থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকায়, যা আগে ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৪ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বিক্রি হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান দরবৃদ্ধির ঠিক আগেই বৃহস্পতিবার সকালে এক দফায় সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক দিনে টানা চার দফায় ভালো মানের সোনার দাম সর্বমোট ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপটে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও আগের সমপরিমাণ দাম বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড মূল্যে পৌঁছাল এই বহুমূল্য ধাতু।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে আকস্মিক এই দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার সরবরাহ সংকট এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজুস সাধারণ গ্রাহকদের সরকারি নির্দেশনা ও সংগঠনের নির্ধারিত মূল্যে সোনা কেনাবেচার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে চোরাচালান রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক রশিদ প্রদানের মাধ্যমে লেনদেনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দর সংশোধন হলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


