নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান

নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকা: নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে দেশটির সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার ডেভিড পাইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৈশ্বিক বাজারে অত্যন্ত প্রশংসিত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে এসব বাংলাদেশি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই খাতগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ নেওয়ার সময় এসেছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখ করে মো. আব্দুল বারী প্রতিনিধিদলকে বলেন, দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার এবং চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও আধুনিকীকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা কামনা করেন।

বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে কৃষি ও খাদ্য বিজ্ঞানসংক্রান্ত শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান।

সাক্ষাৎকালে নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিউজিল্যান্ড আন্তরিক। হাইকমিশনার নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, পেশাদার দক্ষতা এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের ইতিবাচক অবদানের কথাও ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশটির কাউন্সিলর (অ্যাগ্রিকালচার) মিলানি ফিলিপস এবং অনারারি কনসাল শামসুল আলম মল্লিক। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম উন্নত অর্থনীতির দেশ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের এই বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তৈরি পোশাক ও চামড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্বমানের ওষুধ শিল্পের জন্য নিউজিল্যান্ড একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার হয়ে উঠতে পারে, যা দেশের রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখীকরণে ভূমিকা রাখবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ