অপরাধ ডেস্ক
বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক তরুণীকে (১৯) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকি দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার রায়হানের ছেলে কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত হাতেম আলী পাইকারের ছেলে বাধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে রকি। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত অপর দুই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকদের আগে থেকেই জানাশোনা ও সামাজিক যোগাযোগ ছিল। রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই তরুণী শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই কাওছার, বাধন, সাদিকসহ চারজন অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তারা সবাই মিলে মদ্যপানের পরিকল্পনা করেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত সোয়া ১০টার দিকে তারা ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাট সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন পুরোনো ফাঁকা ভবনে সমবেত হন। সেখানে রকি নামের আরেক যুবক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভবনের ভেতরে মদ্যপানের একপর্যায়ে উপস্থিত যুবকরা তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের পর রাত গভীর হলে অভিযুক্ত বাধন ভুক্তভোগী তরুণীকে ওই ভবন থেকে বের করে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তারা শহরের বিগ বাজার এলাকায় পৌঁছালে তরুণীটি চিৎকার শুরু করেন এবং স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দাদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত বাধন তরুণীকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
এরপর স্থানীয় সাধারণ জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনাহার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ রক্তাক্ত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এবং ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহ করে।
বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।


