নানা বিতর্ক ছড়িয়ে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে শনিবার তিনি বিদেশে যান।
বৃহস্পতিবার হাজী মোহাম্মদ সেলিমের একান্ত সচিব মহিউদ্দিন মাহমুদ বেলাল তার দেশে ফেরার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দেশে ফিরেছেন সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম।
এদিকে, বিমানবন্দর সূত্র জানায়, থাই এয়ারওয়েজের টিজি- ৩২১ ফ্লাইটে হাজী সেলিম দেশে ফিরেছেন। এ সময় তাকে রিসিভ করতে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মদীনা গ্রুপের কর্মচারীরা এসেছিলেন।
হাজী সেলিমের বড় ছেলে সোলাইমান সেলিম রোববার একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে স্বীকার করেন তার বাবা দেশের বাইরে গিয়েছেন। তবে কোন বিমানবন্দর দিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাজী সেলিম দেশ ছেড়েছিলেন কি না জানতে যোগাযোগ করা হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
ইমিগ্রেশন পুলিশের দুপুরের শিফটের অতিরিক্ত এক পুলিশ সুপারও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।
হাজী সেলিমের বিদেশে যাওয়া নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম মনে করেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য পদ আর নেই। গতকাল একটি টেলিভিশনে তিনি বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশ যেতে পারেন না। তার তো আত্মসমর্পণ করার কথা।
যেহেতু সর্বোচ্চ আদালত হাজী সেলিমকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেহেতু তিনি কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে পারেন না বলে মনে করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক)।
বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে পারেন না। যারা তাকে দেশত্যাগে সাহায্য করেছেন, তারা বড় অপরাধ করেছেন। তারা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন।


