বাংলাদেশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের নাগরিকরা যে কোনো প্রান্তে অবস্থান করুক না কেন, যদি তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আমরা তাদের পাশে থাকব। আমাদের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থ হলো আমাদের জনগণ।” তিনি আরও জানান, সংকটের শুরু থেকেই প্রবাসী কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলোচনা করেছেন। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আর কোনো বাংলাদেশি সংঘাতের শিকার হবেন না। তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে যুদ্ধ বা সংঘাত কখনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের সাময়িকভাবে আটকে পড়া বিষয়েও ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আকাশপথ স্বাভাবিক হলে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করা হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়। বিষয়গুলোর মধ্যে বিমান চলাচল, প্রবাসী কল্যাণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (যিনি পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন), শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের লক্ষ্য ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া, বৈঠকে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি, আকাশপথ ও সাময়িক আটকে পড়া প্রবাসীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করার প্রস্তাব আলোচনা করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার পরিস্থিতি মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়াস অব্যাহত রাখবে। এছাড়া, বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত জরুরি পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের সুরক্ষা এবং সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


