যশোর প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে নজরুল গাজী (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২ মার্চ) রাতে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক নজরুল গাজী খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর মাঠবাড়ী গ্রামের রইজউদ্দীন গাজীর ছেলে। তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগরীর জেলখানা ঘাট এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন এবং পেশায় একজন দিনমজুর।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের রাতে ওই শিশুটিকে কৌশলে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী নজরুল গাজী। ভুক্তভোগী শিশুটি সম্পর্কে নজরুলকে ‘নানা’ বলে সম্বোধন করত। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন ছিল। সোমবার সকালে শিশুটি তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনার জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় বিশ্বাস ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা কৌশল অবলম্বন করে অভিযুক্ত নজরুল গাজীকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডেকে পাঠান। রাত ৮টার দিকে তিনি ক্লিনিকে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নজরুলকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘুমের সুযোগে তিনি এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে নজরুল গাজীকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তের জবানবন্দি ও প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন অপরাধের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলাটিকে আইনিভাবে জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করছে এবং খুব শীঘ্রই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এই মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
আমি কি আপনার জন্য এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারি?


