দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৩; হাসপাতালসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৩; হাসপাতালসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একজন রিজার্ভ সার্জেন্ট মেজর নিহত এবং আরও তিনজন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ। একই সময়ে ওই অঞ্চলে পৃথক হামলা ও সংঘর্ষের ফলে লেবাননের তেবনিন এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। চলমান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আইডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংঘর্ষে সার্জেন্ট মেজর (রিজার্ভ) আয়াল উরিয়েল বিয়াঙ্কো নিহত হন। আহত তিন সেনাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের তেবনিন সরকারি হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার পর গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে। যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও আশপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়। ফুটেজে করিডোরজুড়ে ধুলোবালি, ভাঙা কাচ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালের একাধিক কক্ষে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু অংশ ধসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। বাইরে পার্ক করা যানবাহনও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দৃশ্যমান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত অনুযায়ী, হামলার সময় সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের সংখ্যা বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত ধীরে ধীরে সীমান্ত অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামো ও জনজীবনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ধারাবাহিক হামলা ও সংঘর্ষে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে আবাসিক এলাকা, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাও ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ, সরঞ্জাম ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ সীমান্ত সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ