ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকে নেতৃত্বে জেডি ভ্যান্স

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকে নেতৃত্বে জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার অগ্রগতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। সম্ভাব্য এ বৈঠককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।

সূত্রগুলোর বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও সম্ভাব্য এই বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। কুশনার যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে আলোচনায় তার উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শীর্ষ তিন উপদেষ্টার ওপর অর্পণ করেছেন। এই উপদেষ্টারা হলেন জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাদের ওপর, এবং তারা আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকের পর থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ওই বৈঠকের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইরানি পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন দফা আলোচনা শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধ নিরসনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে আলোচনার চূড়ান্ত রূপরেখা কিংবা নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং আলোচনার বিষয়বস্তু ও কাঠামো নিয়ে এখনো অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে সমন্বয় চলছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এই ইস্যুটিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বিকল্পের পরিবর্তে আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতি এবং এর ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক নজরদারির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এই আলোচনার ওপর নির্ভর করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এ অবস্থায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কি না, এবং সেখানে কোনো অগ্রগতি হয় কি না—সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ