চট্টগ্রামে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ

চট্টগ্রামে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নববর্ষ উদযাপন সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। তিনি বলেন, নববর্ষ উদযাপনের মতো আয়োজনে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক সামাজিক বার্তা বহন করে, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন তার পূর্ণতা পায় না; বরং অংশগ্রহণমূলক ও সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই তা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সমন্বিত জাতিগঠনের ধারণাকে শক্তিশালী করে। তিনি নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন র‌্যালি, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার কথা উল্লেখ করেন, যা ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ হিসেবে ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের পেছনে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর এমন একটি বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তিনি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা নববর্ষ উদযাপনকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেন। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও লোকজ উপাদান তুলে ধরা হয়। আয়োজনে র‌্যালি, নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চট্টগ্রামের সিআরবি শিরিষতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক আরেকটি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ওই আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয় এবং নববর্ষ উদযাপনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ