বাংলাদেশ ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে চলমান তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ব্যক্তি ভুয়া বা অসত্য তথ্য প্রদান করে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে যাচাইয়ের মাধ্যমে ধরা পড়ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ৪৮১ জনের বিরুদ্ধে গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর উপকমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এই প্রক্রিয়া দেশের সব অঞ্চলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
মন্ত্রী জানান, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে তালিকা পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।


