বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে শোক

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে শোক

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার ভোরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার মৃত্যুতে সরকারের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে গত ১৩ এপ্রিল মাহবুবুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রথমে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যায়, যা গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়। নিবিড় চিকিৎসা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাহবুবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ১৩তম ব্যাচের (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডার) একজন কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা এবং পেশাদারিত্বের জন্য তিনি সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সুপরিচিত ছিলেন।

২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখেন, যা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করে।

তার মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি মাহবুবুর রহমানকে একজন দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ প্রশাসককে হারিয়েছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দেশের বাণিজ্য খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। তার কর্মদক্ষতা ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মী রেখে গেছেন। তার জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ