সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা: জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদকে ব্যবহারের প্রত্যয় বিএনপি জোটের

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা: জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদকে ব্যবহারের প্রত্যয় বিএনপি জোটের

রাজনীতি ডেস্ক

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষে বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দ্বিপক্ষীয় যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত জানান। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে প্রার্থীরা এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর প্রার্থীরা জাতীয় সংসদে তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের আপামর জনসাধারণের উন্নয়ন, বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেলিমা রহমান বলেন, দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। গত ১৭ বছরে যারা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নানাবিধ প্রতিকূলতার শিকার হয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা সরকারি ও বিরোধী পক্ষ নির্বিশেষে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকবেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে সমন্বয় বা কাজের পরিধি নির্ধারণের বিষয়ে তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা মূলত দলীয় সিদ্ধান্ত ও কাঠামোর অধীনে কাজ করেন। ফলে তাদের কাজের ক্ষেত্র এবং কর্মপদ্ধতি দল কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

সংরক্ষিত আসনে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন বৈধ হওয়া আরেক নেত্রী শিরিন সুলতানা নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে তার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে মৌখিক আলোচনার চেয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি দেশের নারী সমাজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই জোটের অপর প্রার্থী রেহানা আক্তার রানু সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করার কথা বলেন। তিনি বিশেষ করে সংসদে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন এবং যেকোনো প্রকার অন্যায্য প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কথা ব্যক্ত করেন।

এদিকে স্বতন্ত্র মোর্চা থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া সুলতানা জেসমিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো গেলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। এছাড়া কৃষি প্রধান এই দেশে কৃষিখাতের আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে মনোনিবেশ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে চলা মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজনসহ মোট ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। এই প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধী জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই অংশগ্রহণ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংরক্ষিত আসনের এই নারী সদস্যদের ভূমিকা কতটুকু কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে প্রার্থীরা তাদের প্রাথমিক বক্তব্যে যে উন্নয়নমুখী ও অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ