নগর উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হবে, সেই ওয়ার্ডের সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ও মশার উপদ্রব সবচেয়ে কম থাকবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওয়ার্ডভিত্তিক ফগার মেশিন বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
নাসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, ওয়ার্ড সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নাসিক প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নজরদারি, নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান ও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরবরাহ করা মশা নিধনের ওষুধ উন্নতমানের এবং পরীক্ষিত। এই ওষুধের সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান মিশিয়ে কেউ যদি অসাধু উপায়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আপস করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
চলতি বছরের মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফগার মেশিন বিতরণের একটি পরিসংখ্যানও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। নাসিকের মোট ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথম ধাপে গত জানুয়ারিতে ১৬টি এবং মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৬টি ফগার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। দুই ধাপে এ পর্যন্ত মোট ৩২টি ফগার মেশিন ওয়ার্ড পর্যায়ে সরবরাহ করা হলো। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ওয়ার্ডেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তা সম্প্রসারণ করা হবে।
সামনে বর্ষা মৌসুম আসায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নাসিকের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ বাগান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


