শিক্ষা ও তথ্য ডেস্ক
চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁসের নামে কিছু ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল। এই অপতৎপরতা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে সাইবার নজরদারি এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আগের চেয়ে কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত কয়েক দিনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক প্রতারিত না হন।
একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন যে, বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি মূলত কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণা। ওই প্রতারক চক্রটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলে। যেহেতু প্রকৃত কোনো প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ত্রুটি ছিল, তাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদন সরিয়ে নিয়েছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান ও অতীত পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে মাহদী আমিন বলেন, বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের বিকৃতি এবং মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমান সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে। একটি সুশিক্ষিত ও আধুনিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।
সরকারের গৃহীত সংস্কার পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকার ‘আন্দোলনময় শিক্ষা’র যে সংস্কৃতি ও পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তা যেকোনো ধরণের প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
পরিশেষে, মাহদী আমিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া বা বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রলোভনে পা দেওয়া কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের নিজ সন্তানদের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া এবং কেবল সরকারি ও প্রামাণিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে দেশের নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।


