তারেক রহমানের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে বিল গেটসের বাংলাদেশ সফর ও ডিজিটাল ভবিষ্যতের রূপরেখা

তারেক রহমানের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে বিল গেটসের বাংলাদেশ সফর ও ডিজিটাল ভবিষ্যতের রূপরেখা

জাতীয় ডেস্ক

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ২০০৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি ক্লাবে ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠন: টেলিকম, ডেটা ও সাইবার সুরক্ষা বিল ২০২৬’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন। বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিআইএসএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রেস সচিব জানান, ২০০৪ সালে তারেক রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিল গেটসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তিনি তখন একটি সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে এই ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলো ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করেছে বলে সংলাপে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার ইতিহাস এবং বৈশ্বিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

নীতি সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাকস্বাধীনতা নিয়েও কথা বলেন প্রেস সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক এবং সরকার তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে একটি রাজনৈতিক দলের ভাষা ও সমালোচনার ধরন নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা গালিগালাজ কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতার সংজ্ঞায় পড়ে না। সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে সুস্থ বিতর্কের চর্চা বজায় রাখা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম হাতিয়ার হলো উন্নত টেলিকম ব্যবস্থা ও কার্যকর সাইবার সুরক্ষা। ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা বিলটি যাতে জনবান্ধব এবং প্রযুক্তিবান্ধব হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গঠনে কাজ করছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা প্রদান বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিআইএসএ সভাপতি ফয়সাল আলিমের সভাপতিত্বে সংলাপে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং বিআইএসএ-এর প্রধান উপদেষ্টা মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। বক্তারা সাইবার সুরক্ষা বিল ২০২৬-এর বিভিন্ন কারিগরি দিক, টেলিকম খাতের চ্যালেঞ্জ এবং ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

সংলাপে আইসিটি খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। তারা মনে করেন, ২০২৬ সালের এই নতুন বিলটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, যদি এর প্রয়োগ স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের হয়। বিশেষ করে উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে দেশের আইসিটি খাতের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ