ডেস্ক
ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য শেনজেন ভিসা প্রাপ্তদের নির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত সদস্য দেশগুলোর দূতাবাস। জার্মানির দূতাবাস থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দেওয়া পূর্বপরিকল্পিত রুট বা সময়সূচি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পরিবর্তন করলে তা ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সোমবার সকালে ঢাকার জার্মান দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর পক্ষে যৌথভাবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, একজন আবেদনকারী যখন শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করেন, তখন তাকে একটি সুনির্দিষ্ট ভ্রমণ রূপরেখা (আইটিনারি) প্রদান করতে হয়। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই রূপরেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ভিসা পাওয়ার পর অনেকে প্রাথমিক পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন বা এক দেশের কথা বলে অন্য দেশে বেশি সময় অবস্থান করছেন। এই প্রবণতা ভিসা নীতিমালার পরিপন্থী।
ভ্রমণ পরিকল্পনা বিচ্যুতির নেতিবাচক প্রভাব দূতাবাসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুতি ঘটলে পরবর্তী সময়ে শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। শেনজেন কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে ভ্রমণকারীর প্রতিটি পদক্ষেপ ও পূর্ববর্তী রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। যদি কোনো পর্যটক তার ভিসায় উল্লিখিত গন্তব্য বা মেয়াদের সাথে বাস্তবের ভ্রমণের মিল না রাখেন, তবে তা পরবর্তী আবেদনের ক্ষেত্রে ‘বিশ্বস্ততার সংকট’ তৈরি করে। এর ফলে ভবিষ্যতে আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যানের (ভিসা রিফিউজাল) প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
ভিসা প্রাপ্তদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নতুন নির্দেশনায় ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: ১. নির্ধারিত সময়সূচি: ভিসার মেয়াদের মধ্যে এবং যে তারিখে ভ্রমণের কথা ছিল, সেটি বজায় রাখা। ২. গন্তব্য ও উদ্দেশ্য: যে উদ্দেশ্যে (যেমন: পর্যটন, ব্যবসা বা শিক্ষা) এবং যে দেশে ভ্রমণের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য পরিবর্তন না করা। ৩. কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ: যদি অনিবার্য কোনো কারণে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই হয়, তবে সেটি আগেভাগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব শেনজেন এলাকা মূলত ইউরোপের ২৯টি দেশের একটি জোট, যেখানে একটি সাধারণ ভিসা নীতির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যাতায়াত করা যায়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে গমনেচ্ছুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আবেদনকারীরা কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ভিসা নিয়ে সেখানে প্রবেশ না করে অন্য দেশে চলে যান কিংবা আবাসন সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রদান করেন। মূলত এই অনিয়মগুলো রোধ করতেই দূতাবাসগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেনজেন দেশগুলোর এই কঠোর অবস্থান মূলত অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ। নিয়ম মেনে ভ্রমণ করা নাগরিকরা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যদিকে, যারা নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাদের জন্য ইউরোপের প্রবেশদ্বার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পরিশেষে, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের অন্যতম পরিচয়। তাই শেনজেন ভিসা প্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ ভ্রমণ পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রা করার জন্য দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।


