নারীর মর্যাদা ও সমতা নিয়ে প্রীতি জিনতার বলিষ্ঠ প্রতিবাদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়

নারীর মর্যাদা ও সমতা নিয়ে প্রীতি জিনতার বলিষ্ঠ প্রতিবাদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়

বিনোদন ডেস্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি পাঞ্জাব কিংসের মালকিন এবং বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। একজন ভক্তের পক্ষ থেকে তাকে ‘ট্রফি’ হিসেবে সম্বোধন করার বিপরীতে প্রীতির দেওয়া যৌক্তিক ও সময়োপযোগী উত্তরটি বর্তমানে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এই ঘটনাটি বিনোদন জগতের তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর সম্মান রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রীতি জিনতা। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে এক নেটিজেন তাকে পাঞ্জাব কিংস দলের ‘ট্রফি’ হিসেবে অভিহিত করে একটি তির্যক মন্তব্য করেন। সাধারণত তারকাদের ঘিরে এমন মন্তব্য প্রায়ই দেখা গেলেও প্রীতি জিনতা একে হালকাভাবে নেননি। বরং একজন নারীর আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক অবস্থানের জায়গা থেকে এর কড়া জবাব দিয়েছেন।

উক্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রীতি বলেন, কোনো নারীই কখনো প্রদর্শনের বস্তু বা ‘ট্রফি’ হতে চান না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রফি পণ্য হিসেবে ক্রয়যোগ্য এবং একে নির্দিষ্ট একটি কাঁচের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়। কিন্তু একজন নারীর অস্তিত্ব পণ্য হিসেবে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে এবং বাস্তব জীবনে সম্মানের সঙ্গে থাকা উচিত। প্রীতির এই মন্তব্য মূলত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার মূলে আঘাত করেছে, যেখানে প্রায়ই সফল নারীদের কেবল শোভাবর্ধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রীতি জিনতার এই অবস্থান কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং এটি সমসাময়িক নারীবাদী চেতনার একটি প্রতিফলন। বিনোদন জগতের তারকাদের প্রায়ই বাহ্যিক রূপ দিয়ে বিচার করা হয়, যা তাদের মেধা ও পরিশ্রমকে আড়াল করে দেয়। আইপিএল গ্যালারিতে প্রীতির সরব উপস্থিতি যখন দলের অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা, সেখানে তাকে ‘ট্রফি’ বলাটা লিঙ্গভিত্তিক অবমাননার শামিল। তার এই প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকরা তার এই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

একই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রীতি তার পেশাদার জীবনের ব্যস্ততা এবং আসন্ন চলচ্চিত্র নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও রুপালি পর্দায় ফিরছেন এই অভিনেত্রী। তার আসন্ন প্রজেক্টগুলোর মধ্যে আমির খান প্রোডাকশনের ‘লাহোর ১৯৪৭’ নিয়ে তিনি বিশেষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রখ্যাত পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এই পিরিয়ড ড্রামাটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থেকে এমন একটি গভীর ঘরানার গল্পে তিনি যুক্ত হয়েছেন। সহ-অভিনেতা সানি দেওলের সঙ্গে তার পূর্ববর্তী রসায়নও এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এছাড়া ‘ভাইব’ নামের আরেকটি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন তিনি। ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর মতো গম্ভীর প্রেক্ষাপটের পর এই সিনেমাটিকে একটি হালকা মেজাজের বিনোদনমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রীতি। ব্যক্তিগত জীবনে মাতৃত্ব এবং আইপিএল দল পরিচালনার দায়িত্ব সামলে অভিনয়ে এই প্রত্যাবর্তন প্রীতির ক্যারিয়ারের জন্য একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রীতি জিনতার এই প্রতিবাদ এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা এটিই প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল বিনোদন জগতের একজন গ্ল্যামারাস মুখ নন, বরং একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং প্রদর্শনের মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে তার এই সোজাসাপ্টা বক্তব্য ভবিষ্যতে অন্যান্য নারী সেলিব্রিটিদেরও এমন অযাচিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনাটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সম্মানবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিনোদন