স্পোর্টস ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ইউরোপসেরার মঞ্চে দ্রুততম ২৫ গোল করার রেকর্ডে স্বদেশি কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার এই বিধ্বংসী ফর্ম কেবল ক্লাব ফুটবলেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নতুন শক্তি জোগাচ্ছে।
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই আর্সেনালের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাত্মক কৌশলে আর্সেনাল বেশ দৃঢ়তা প্রদর্শন করছিল। ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অ্যাতলেতিকো পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় থাকলেও আলভারেজের সমতাসূচক গোলটি পুরো দৃশ্যপট বদলে দেয়। তার চমৎকার পজিশনিং এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কাছে পরাস্ত হন আর্সেনালের গোলরক্ষক। এই গোলটি অ্যাতলেতিকোকে মানসিকভাবে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আলভারেজের গোলসংখ্যা এখন ২৫। এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তিনি যে সংখ্যক ম্যাচ খেলেছেন, তা লিওনেল মেসিসহ ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারদের তুলনায় কম। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে কনিষ্ঠ এবং দ্রুততম খেলোয়াড়দের তালিকায় আলভারেজের এই অন্তর্ভুক্তি তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ম্যাচজুড়ে আলভারেজ অত্যন্ত গতিময় ফুটবল উপহার দিয়েছেন। তার হাই-প্রেসিং ফুটবল কৌশল এবং অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার অগোছালো করে দেয়। কোচ দিয়েগো সিমিওনের কৌশলে আলভারেজ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এটিই সম্ভবত তার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আলভারেজের এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি আধুনিক ফুটবলে স্ট্রাইকারদের পরিবর্তিত ভূমিকার প্রতিফলন। প্রথাগত নাম্বার নাইন পজিশনের বাইরে গিয়ে উইং বা ফলস নাইন হিসেবেও তার কার্যকারিতা প্রমাণিত। অন্যদিকে, আলভারেজের এই উজ্জ্বল ফর্ম আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা। আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে তার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে।
আলভারেজের এই অর্জনের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মেসির মতো মহাতারকার রেকর্ড ভেঙে দেওয়া তাকে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে চিহ্নিত করছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সাফল্যের চাবিকাঠি যে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের পায়েই থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তার এই পারফরম্যান্স ইউরোপীয় ফুটবলে অ্যাতলেতিকোর অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


