মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কুইচি

মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কুইচি

জ্বালানি ও বাণিজ্য ডেস্ক

মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি কুইচি’। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। সংশ্লিষ্ট লোকাল শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন নিশ্চিত করেছে যে, আজ দুপুর থেকেই জাহাজটি থেকে জ্বালানি খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে এটি বাংলাদেশে আসা অকটেনের তৃতীয় বড় চালান। এর আগে গত ৮ এপ্রিল ২৬ হাজার টন এবং ১৭ এপ্রিল ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। নতুন চালানের মাধ্যমে চলতি মাসে মোট ৭৯ হাজার টন অকটেন দেশে পৌঁছাল। দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান ব্যবহারিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। সেই হিসেবে এপ্রিল মাসে আমদানিকৃত এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে আগামী অন্তত দুই মাস বা তার বেশি সময়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কুইচি ছাড়াও অকটেন ও ডিজেল নিয়ে আরও পাঁচটি জাহাজ অবস্থান করছে। গত বুধবার তিনটি জাহাজ বার্থিং সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে তেল খালাস শুরু করেছে। তবে বন্দরে বিশেষায়িত ডলফিন জেটির সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক বিরূপ আবহাওয়ার কারণে খালাস কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

শিপিং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরে ডলফিন জেটি মাত্র তিনটি হওয়ায় চাইলেও সব জাহাজকে একসঙ্গে বার্থিং দিয়ে তেল খালাস করা সম্ভব হয় না। ক্রমান্বয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়ানো হয়। এদিকে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে লাইটারেজ জাহাজে তেল স্থানান্তর বা জেটিতে খালাস করার প্রক্রিয়ায় কারিগরি চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই নিয়মিত আমদানি দেশের পরিবহন খাত এবং শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চাহিদার তুলনায় মজুত পর্যাপ্ত থাকায় নিকট ভবিষ্যতে বাজারে অকটেনের কোনো ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতেও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) সমন্বিতভাবে দ্রুততম সময়ে এই জ্বালানি খালাস করে দেশব্যাপী সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ