অপরাধ ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলনের পর নিখোঁজ হওয়া দর্প বর্মন সৌরভ (২৭) নামে এক যুবককে একদিন পর টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বঙ্গবন্ধু সেতুর (যমুনা সেতু) পূর্ব প্রান্ত থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি কোনো সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন।
ভুক্তভোগী সৌরভ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দনগর এলাকার গোপাল চন্দ্রের ছেলে। তিনি স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ‘ইএসডিও’ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদনের পর গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ওই অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে নিখোঁজ হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার পর থেকেই সৌরভের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান চালান। কোথাও হদিস না পেয়ে পরদিন শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের প্রায় দেড় দিন পর শুক্রবার রাতে জনৈক ট্রাকচালকের মাধ্যমে সৌরভের সন্ধান পায় তার পরিবার। ওই চালক জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার সময় এক যুবককে রাস্তার পাশে অসংলগ্ন অবস্থায় চলাফেরা করতে দেখেন তিনি। যুবকটি কথা বলতে পারছিলেন না এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যুবকটি তার পিতার মোবাইল নম্বর দিতে সক্ষম হলে ট্রাকচালক তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সৌরভের মামা হরেশ চন্দ্র জানান, খবর পাওয়ার পর বিষয়টি ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে টাঙ্গাইলের স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধারের সময় সৌরভের কাছে থাকা উত্তোলিত ২ লাখ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। সৌরভের ভাষ্যমতে, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর তার আর কোনো কিছু মনে নেই। তিনি কীভাবে টাঙ্গাইল পৌঁছালেন সে বিষয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ওসি আরও জানান, যুবকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো পেশাদার অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন। দুষ্কৃতকারীরা তাকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে জনশূন্য কোনো স্থানে ফেলে রেখে যায়। ভুক্তভোগীকে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরিয়ে আনার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধী চক্রের তৎপরতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের পক্ষ থেকে বড় অংকের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


