অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে পরিলক্ষিত জ্বালানি তেলের সংকটের জন্য তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি এবং প্রশাসনিক নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সচিবের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী নির্দেশনা প্রদান করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে কার্যকর করা হয়নি।
আজ শনিবার (২ মে) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে দেশের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের যে দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে মূলত কৃত্রিম কারণ বিদ্যমান ছিল। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত থাকতে পারে। তবে একইসাথে মন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের জনবলের সীমাবদ্ধতা ও অদক্ষতার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমাদের লোকজনও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। তারা তৎপর থাকলে এই সংকট ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো না।” বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো ভোগান্তি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৭৫ দিন ধরে তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তবে খনিজ সম্পদ বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে এবারই প্রথমবারের মতো নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খনিজ সম্পদের সঠিক অনুসন্ধান ও উত্তোলন দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
সেমিনারে দেশের বাজেট বরাদ্দ এবং গবেষণা খাতের অবহেলা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত দুই দশক ধরে দেশে বড় অংকের বাজেট বা ‘মেগা বাজেট’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, যে জাতি গবেষণায় বিনিয়োগ করে না এবং এই খাতে পিছিয়ে থাকে, তাদের চিরকাল বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে বিপণন কোম্পানিগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছিল সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে। আজকের সেমিনারে মন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই সংকটের অভ্যন্তরীণ কারণগুলোকেই স্পষ্ট করল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর তেল বিপণন সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসাথে দেশের নিজস্ব খনিজ সম্পদ বিশেষ করে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের এই অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


