নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা: সংরক্ষিত আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত

নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা: সংরক্ষিত আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত

রাজনীতি ডেস্ক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ শনিবার (২ মে) যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেল থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনসিপির পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। আজ ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের নির্ধারিত দিন। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নুসরাত তাবাসসুমের দাখিলকৃত হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। সকল তথ্য ও আইনি শর্ত পূরণ হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুতই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত গণমাধ্যমকে জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁদের দলের একমাত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হবে। সেখানে নির্বাচনের পরবর্তী রণকৌশল ও দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আজ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলো। আইন অনুযায়ী, যদি কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকেন এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়, তবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান। নুসরাত তাবাসসুমের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ হওয়া এনসিপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে নুসরাত তাবাসসুমের মতো তরুণ এবং সক্রিয় মুখকে সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেয়। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা বৃদ্ধিতে এ ধরনের মনোনয়ন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কমিশন চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপরই নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। ইসি কার্যালয় প্রাঙ্গণে দলটির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নুসরাত তাবাসসুম সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ