অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের মানবিক উদ্যোগ: কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তায় জোর

অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের মানবিক উদ্যোগ: কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তায় জোর

বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ তার সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত ‘ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রম, দর্শন এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পলাশ জানান, তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি প্রচলিত দানভিত্তিক সহায়তার পরিবর্তে টেকসই সমাধান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়। তার মতে, শুধুমাত্র খাদ্য, পোশাক বা অর্থ সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়; বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই অধিক কার্যকর পন্থা। এই দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই ‘ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন’ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করছে।

অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মানবিক কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি এমন কিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন, যারা পূর্বে তার পরিবারকে সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়ে বিভিন্ন দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতেও অব্যাহত থাকে।

রোজা উপলক্ষে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য ইফতার আয়োজনের বিষয়টিও তার উদ্যোগগুলোর একটি অংশ। তিনি জানান, এ ধরনের কার্যক্রমে শুধুমাত্র প্রস্তুত খাবার বিতরণের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্বভাবে রান্না করে খাবার বিতরণ করা হয়, যাতে উপকারভোগীরা উন্নতমানের খাদ্য পেতে পারেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদ্রাসায় এসব খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এছাড়া মা ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘যতন’ নামে একটি ব্রেস্টফিডিং সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন পলাশ। তিনি জানান, বিদেশ ভ্রমণের সময় উন্নত সুবিধা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেশে এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা তার মধ্যে আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় চট্টগ্রামে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তার মতে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক স্থানে স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে, যা তাদের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘যতন’ প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পলাশ আরও জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য স্থান বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তার এসব কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার উদ্যোগের মূল্যায়ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তিনি এসব কাজ ব্যক্তিগত প্রচারণার জন্য নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই পরিচালনা করছেন বলে উল্লেখ করেন।

সামগ্রিকভাবে, বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার সামাজিক কার্যক্রম তার ভিন্নধর্মী একটি পরিচয় তুলে ধরছে, যেখানে ব্যক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার একটি মডেল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ